দক্ষিণ এশিয়া

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধে প্রাণহানি এক লাখ ছাড়িয়েছে: এসিএলইডি

নেপিডো, ১ জুলাই – মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন এন্ড ইভেন্ট ডাটা প্রোজেক্ট (এসিএলইডি) বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বর্তমানে একে এশিয়ার অন্যতম ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত করছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী।

এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হলে তা দমনে কঠোর অবস্থান নেয় জান্তা সরকার। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুললে সংঘাত পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

সরকারিভাবে হতাহতের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা দাপ্তরিক হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। এই যুদ্ধের সবচেয়ে করুণ পরিণতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দেশটির রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা থেইন আয়ে নু জানান, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন।

তার মতো অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ও স্বজন হারিয়ে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গৃহযুদ্ধের কারণে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে প্রতি পাঁচজন নাগরিকের মধ্যে একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন।

দেশজুড়ে অন্তত ১ হাজার ২০০টি সশস্ত্র গোষ্ঠী বর্তমানে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করলেও সামরিক বাহিনী কৌশলগত সুবিধা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সৈন্যসংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালে জান্তা সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইন কার্যকর করেছে যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার নাগরিককে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডেও বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন। একই সঙ্গে এই অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে মাদক পাচার ও অনলাইন প্রতারণার মতো অপরাধও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

এস এম/ ১ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language