জাতীয়

হোলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর: স্মৃতিচারণ ও জঙ্গিবাদের সংজ্ঞায় পরিবর্তন

ঢাকা, ১ জুলাই – রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে একদল সশস্ত্র তরুণের সেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

ওই রাতে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যার পর পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির অবসান ঘটে। সেই অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়েছিল যাদের নব্য জেএমবির সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয় এবং তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এই হামলা ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের স্মরণে গুলশান থানার সামনে দীপ্ত শপথ নামক একটি ভাস্কর্য নির্মিত হলেও ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা এখন পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি।

বিগত বছরগুলোতে পুলিশ ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পুলিশ জানিয়েছে, এবার সব দূতাবাস সমন্বয় করে ইতালি দূতাবাসে একটি যৌথ স্মরণসভার আয়োজন করেছে। তবে ঘটনাস্থলে শ্রদ্ধা জানানোর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখা হয়নি।

এই ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২০১৯ সালে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও উচ্চ আদালত ২০২৩ সালে তা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করে।

বর্তমানে দেশের নীতিনির্ধারক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কণ্ঠে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। সাবেক পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী সম্প্রতি এক বক্তব্যে দেশে কোনো জঙ্গির অস্তিত্ব নেই বলে মন্তব্য করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও একই সুরে বলেন যে জঙ্গি শব্দটি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আগে ব্যবহৃত হতো।

তবে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সতর্ক করে বলেছেন যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি এবং এই প্রবণতার মানুষদের সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।

এনএন/ ১ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language