৬টি বিশ্বকাপ খেলা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার, ক্লোসাকে ছুঁয়ে ২০৩০ নিয়ে কোটি ভক্তের মন ভেঙে দিলেন মেসি!

ক্যানসাস সিটি, ১৭ জুন – ফুটবল দুনিয়ায় রেকর্ড আসে, আবার চলেও যায়। কিন্তু কিছু রেকর্ড আর কিছু মানুষ চিরকালের জন্য মহাকাব্য হয়ে থেকে যায়। ক্যানসাস সিটির সবুজ গালিচায় আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার সাথে সাথেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি বিশ্বকাপে খেলার অতিমানবীয় নজির গড়লেন লিওনেল মেসি। আর এই ঐতিহাসিক রাতকে তিনি রাঙালেন নিজের চিরচেনা জাদুকরী স্টাইলে—এক দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক দিয়ে!
কিন্তু ম্যাচ শেষে যখন উৎসবের আমেজ, তখনই কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের বুকটা ভেঙে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জানিয়ে দিলেন ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর চূড়ান্ত ও শেষ সিদ্ধান্ত।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই পুরো গ্যালারির চোখ ছিল ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার ওপর। আর মেসিও হতাশ করেননি। ম্যাচের ৮০ মিনিটের মধ্যে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ৩টি দর্শনীয় গোল উপহার দেন তিনি।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে বড় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নিজের নাম লিখে নিলেন এলএমটেন (LM10)। একই সাথে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও আজ রাতে মাঠে নেমে এই অনন্য কীর্তির অংশীদার হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার গোলবারের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান। কিন্তু মেসির জাদুর কাছে আজ পরাস্ত হতে হলো জিদান-পুত্রকেও। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে লুকা জিদানকে বারবার বোকা বানিয়ে মেসি বুঝিয়ে দিলেন—বয়সের কোঠা ৩৯ ছুঁলেও তাঁর পায়ের ধার এখনো এক ফোঁটাও কমেনি।
ম্যাচ শেষে অবধারিতভাবেই উঠেছিল সেই মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নটি—”তবে কি ২০৩০ সালের সপ্তম বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তে জার্সিতে দেখা যাবে জাদুকরকে?”
মিক্সড জোনে আর্জেন্টাইন স্পোর্টস মিডিয়া ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ যখন এই প্রশ্নটি মেসির দিকে ছুঁড়ে দেয়, তখন ফুটবলের মহানায়ক প্রথমে মিষ্টি একটা হাসি দেন। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে থাকা বাস্তব সত্যটি প্রকাশ করতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। স্পষ্ট ভাষায় মেসি বলেন, “না, না, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
আসলে ২০৩০ বিশ্বকাপ যখন মাঠে গড়াবে, তখন মেসির বয়স হবে ৪২ বছর। অতীতে বহুবার খেলা চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানালেও, বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে ৪২ বছর বয়সে শরীর ও ফর্ম ধরে রাখা কতটা অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন, তা বাস্তববাদী মেসি খুব ভালো করেই বোঝেন।
ভবিষ্যতের কোনো অলীক কল্পনায় মেতে থাকতে চান না আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তাঁর চোখ এখন একদম বর্তমানে। ব্যক্তিগত কোনো রেকর্ড বা ভবিষ্যতের পরিসংখ্যানের চেয়ে দলগত সাফল্যই তাঁর কাছে প্রধান।
মেসির বর্তমান মিশন—দলের তরুণদের সাথে নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে লড়া এবং আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে হতে যাওয়া মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনার জায়গা নিশ্চিত করা। ৩৯ বছর বয়সেও ট্রফি ধরে রাখার যে ক্ষুধা মেসির চোখে দেখা যাচ্ছে, তা বিশ্ব ফুটবলকে আরও একবার রোমাঞ্চিত করতে বাধ্য!
এনএন/ ১৭ জুন ২০২৬









