২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন এক মেসির গল্প: প্রমাণের কিছু নেই, শুধুই ফুটবল উপভোগ

বুয়েনোস আইরেস, ১৬ জুন – বিশ্বসেরাদের সেরা তিনি। আর্জেন্টিনার ফুটবলে দিয়েগো ম্যারাডোনার সার্থক উত্তরসূরী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লিওনেল মেসি। রেকর্ডসংখ্যক ব্যালন ডি’অর আর অগণিত কীর্তির মালিক হয়েও তার ক্যারিয়ারে একটি বড় আক্ষেপ ছিল বিশ্বকাপ জয়। ২০১৪ সালে ফাইনালের খুব কাছে গিয়েও রিক্ত হাতে ফিরতে হয়েছিল তাকে। তবে ২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে সেই আরাধ্য সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরে সব অপূর্ণতার অবসান ঘটান রোজারিওর এই জাদুকর।
ফুটবল ভাষ্যকার পিটার ড্রুরি মেসির সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে বর্ণনা করেছিলেন অপার্থিব ভাষায়। লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই ট্রফি জয়ের মুহূর্তটি কেবল একটি শিরোপা ছিল না, সেটি ছিল বছরের পর বছর ধরে চলা সমালোচনা আর মানসিক চাপের মুক্তি।
এখন ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসি হাজির হয়েছেন সম্পূর্ণ নতুন রূপে। ৩৮ বছর বয়সে এসেও তিনি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে মেসির আর কোনো কিছু প্রমাণ করার নেই। তিনি এখন ফুটবল খেলছেন কেবল মনের আনন্দে।
একসময় আর্জেন্টিনার জার্সি মানেই ছিল বুকজুড়ে প্রত্যাশার বিশাল পাহাড়। এখন সেই চাপ পরিণত হয়েছে স্রেফ উপভোগের মন্ত্রে। ক্লাব ফুটবলেও এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
২০২৫ মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়ে ২৯ গোল এবং ১৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। দলকেও এনে দিয়েছেন মেজর লিগ সকারের প্রথম শিরোপা।
মেসি নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি এখন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি এখন আর পুরোপুরি মেসির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তাকে সাথে নিয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
২০১৪ সালের পরিস্থিতির সাথে ২০২৬ সালের সমীকরণ একেবারেই ভিন্ন। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে মেসি ছাড়িয়ে যাবেন মেক্সিকোর আন্তোনিও কারবাহাল, জার্মানির লোথার ম্যাথাউস এবং রাফায়েল মার্কেসদের রেকর্ড। এই তালিকায় যুক্ত হতে পারেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। পেলে কিংবা ম্যারাডোনার মতো মেসিও তার সময়ের শ্রেষ্ঠত্ব লিখে গিয়েছেন নিজস্ব ঢঙে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি কোনো বাড়তি বোঝা ছাড়াই মাঠে নামবেন, যেখানে তার প্রধান লক্ষ্য হবে কেবল ফুটবলকে উপভোগ করা।
এনএন/ ১৬ জুন ২০২৬









