উত্তর আমেরিকা

বিশ্বজুড়ে ১২০টির বেশি বায়ো ল্যাবে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: তুলসি গ্যাবার্ড

ওয়াশিংটন, ১৩ জুন – মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের সাবেক পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সম্প্রতি অবমুক্ত করা কিছু নথির বরাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে অবস্থিত ১২০টিরও বেশি জৈব গবেষণাগারে ঐতিহাসিকভাবে অর্থায়ন করে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এসব গবেষণাগারের বেশিরভাগেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতিসংক্রামক জীবাণু বা প্যাথোজেন নিয়ে গবেষণা চালানো হতো। অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ওডিএনআই) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এর মধ্যে ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত গেইন অব ফাংশন পরীক্ষা নিরীক্ষা।

এই প্রক্রিয়ায় কৃত্রিমভাবে ভাইরাস বা জীবাণুর কার্যক্ষমতা ও সংক্রমণ যোগ্যতা বৃদ্ধি করা হয়। গ্যাবার্ড অভিযোগ করেছেন যে, এই জটিল ও স্পর্শকাতর গবেষণাগুলো অত্যন্ত সামান্য নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হতো। তুলসি গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে জানান যে, ওডিএনআই বর্তমানে এই ল্যাবগুলোর অবস্থান এবং সেখানে কী ধরনের প্যাথোজেন রয়েছে তা শনাক্ত করতে সরকারের অন্যান্য অংশীদারদের সাথে কাজ করছে।

তিনি এই বিপজ্জনক গবেষণা বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, এটি মার্কিন জনগণসহ বিশ্ববাসীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের ৪০টিরও বেশি গবেষণাগারে সাবেক সোভিয়েত আমলের জৈব যুদ্ধাস্ত্রের প্যাথোজেন নিয়ে কাজ করা হতো।

এসব ল্যাবে অ্যানথ্রাক্স, ইবোলা, মার্স, সার্স এবং প্লেগের মতো মারাত্মক সংক্রামক জীবাণু নিয়ে গবেষণা চলত বলে ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের খেরসন ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা নির্দিষ্ট জীবাণু নিয়ে কাজ করার অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থাতেই ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৮২২ ডলারের মার্কিন তহবিল পেয়েছিল। এই গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে গেইন অব ফাংশন গবেষণায় মার্কিন ফেডারেল অর্থায়ন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এস এম/ ১৩ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language