৩ কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫ শতাংশ করের প্রস্তাব করল সরকার

ঢাকা, ১১ জুন – দেশের ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কমিয়ে আনতে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী যাদের বার্ষিক আয় ৩ কোটি টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার বর্তমানের ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হতে পারে।
সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে এবারের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি টেকসই কর কাঠামো ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার।
এই রূপরেখায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী সরকারের সময়কালের একটি সম্ভাব্য কর ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান যে ২০২৮-২৯ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত উচ্চ আয়ের ওপর অতিরিক্ত এই কর আরোপ করা হতে পারে।
তবে এই বর্ধিত হার কেবল অতি ধনী করদাতাদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে এবং সাধারণ মধ্যবিত্তদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। নতুন কাঠামোতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ধাপে পরবর্তী ৩ লাখ টাকার আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এছাড়া পরবর্তী ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ এবং ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের অবশিষ্টাংশের ওপর ৩৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।
অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে আয়বৈষম্য নিরসনে ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর ধার্যের পরামর্শ দিলেও করবিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন কেবল নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। ২০৩০-৩১ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করারও একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাজেটে থাকছে।
এস এম/ ১১ জুন ২০২৬









