‘আইভী শীর্ষ সন্ত্রাসী, সরকার পল্টি মেরেছে!’ রূপগঞ্জে বিস্ফোরক মন্তব্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

নারায়ণগঞ্জ, ৬ জুন – নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ শনিবার (৬ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এনসিপি আয়োজিত এক ‘ফল উৎসবে’ যোগ দিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। সদ্য কারামুক্ত আইভীকে নিয়ে তাঁর এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য পুরো জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
বক্তব্যের শুরুতেই সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী আইভী রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ইলেকশনের (নির্বাচন) আগের কথা ছিল আওয়ামী লীগের বিচার হবে। ইলেকশনের আগে কথা ছিল আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেবেন। বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ গণভোটে হ্যাঁ রায় দিয়েছে। অথচ জনগণের সেই রায় পাওয়ার পরই এই সরকার পল্টি মেরেছে।”
আইভীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, ক্ষমতার সুড়ঙ্গে বসে সরকার জনগণের আবেগ নিয়ে খেলছে।
জনগণ ও সাধারণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “যারা এখন আমাদের গোনার টাইম নাই বলে অহংকার দেখাচ্ছে, আগামী উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন জায়গায় ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা তাদের সরাসরি লাল কার্ড ধরিয়ে দেবেন। জনগণই ক্ষমতার মূল উৎস, তা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবন থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার মামলায় তাকে একের পর এক গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর গত ৩ জুন দিনগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে দেওভোগের বাসায় ফেরেন তিনি।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সরকার রাজনীতির ইতিহাসে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। তিনি ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নারী চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে চসিক বিলুপ্ত হয়ে নাসিক গঠিত হলে টানা তিনটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে টানা এক দশকেরও বেশি সময় মেয়রের চেয়ার ধরে রাখেন তিনি।
তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর গ্রেফতার এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতার মুখে তাঁকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
এনএন/ ৬ জুন ২০২৬









