জাতীয়

রাজধানীতে আজও টিকে আছে প্রাচীন পঞ্চায়েত প্রথা: সবার ঘরে পৌঁছায় কোরবানির মাংস

ঢাকা, ২৪ মে – বাংলার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রাচীন পঞ্চায়েত প্রথা। আদিকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এই পর্ষদ গ্রাম প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কালের বিবর্তনে অনেক কিছু বদলে গেলেও রাজধানীর কিছু এলাকায় আজও টিকে আছে শতবর্ষী এই সামাজিক ব্যবস্থা।

বিশেষ করে লালবাগ, বংশাল, কলতাবাজার, ফরিদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সক্রিয় কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় বর্তমানে পাঁচটি পঞ্চায়েত সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে আদর্শ পঞ্চায়েত অন্যতম। কয়েক দশক ধরে এই পঞ্চায়েতটি বিভিন্ন দাতব্য ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির মাংস সমবণ্টনের মাধ্যমে তারা অনন্য এক নজির স্থাপন করে আসছে। এই পঞ্চায়েতের বর্তমান সদস্য বা ঘরের সংখ্যা ২৪৮টি। প্রতি বছর গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার কোরবানি দিলেও মাংসের স্বাদ পায় পঞ্চায়েতের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পরিবার।

এই কার্যক্রম সম্পর্কে পঞ্চায়েতের প্রধান সর্দার নজরুল ইসলাম জানান যে কোরবানির দিন সকালে কোরবানিদাতারা তাদের পশুর মাংসের অর্ধেক পঞ্চায়েত প্রাঙ্গণে দিয়ে যান। বাকি অর্ধেক তারা নিজেদের জন্য রাখেন। এভাবে সংগৃহীত মাংস স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সুন্দরভাবে প্যাকেটজাত করা হয়।

এরপর সেই মাংস পঞ্চায়েতের কোরবানিদাতা এবং কোরবানি দিতে না পারা পরিবারগুলোর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে করে উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চায়েতের আরেক সর্দার হাজী মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন যে তারা ছোটবেলা থেকেই এই ঐতিহ্য দেখে আসছেন।

শুধু মাংস বণ্টনই নয়, সংগৃহীত পশুর চামড়াগুলো বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিনামূল্যে দান করা হয়। এর মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারেও ভূমিকা রাখে পঞ্চায়েতটি। পঞ্চায়েতের সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সর্দার হাফেজ তাজউদ্দিন আহমেদ জানান যে মূলত জন্মসূত্রে ওই এলাকার বাসিন্দা বা বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ ব্যক্তিরাই সদস্য পদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

সর্দারদের যৌথ সিদ্ধান্তেই নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। আধুনিক নগরজীবনেও এমন ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুশৃঙ্খল সামাজিক কাঠামো যাত্রাবাড়ীর এই পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাণবন্ত হয়ে আছে।

এস এম/ ২৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language