যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ নিহত অন্তত ২০

বৈরুত, ২৪ মে – আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লেবাননের মাটিতে থামেনি ইসরায়েলি বাহিনীর কামানের গর্জন ও বিমান হামলা। চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ জানিয়েছে, সর্বশেষ এই আগ্রাসনে নারী ও উদ্ধারকর্মীসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কিছু মানুষ।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, শনিবার (২৩ মে) রাত থেকে শুরু করে আজ রোববার (২৪ মে) ভোর পর্যন্ত লেবাননের একাধিক বেসামরিক আবাসিক ভবন ও শহর লক্ষ্য করে এই বর্বর হামলা চালানো হয়।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যেসব এলাকায়:
নাবাতিয়া (৯ জন নিহত): নাবাতিয়া জেলার সিয়ের আল-গারবিয়া শহরে একটি জনবহুল আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত এবং ৬ জন আহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টায়ার শহর (৫ জন নিহত): ঐতিহাসিক টায়ার শহরের উত্তরে আল-বাকবুক এলাকায় বিমান হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ৪ জনের মরদেহ বের করতে পারলেও এক নারীর মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে।
দেইর কানুন এন-নাহর ও অন্যান্য (৬ জন নিহত): দেইর কানুন এন-নাহর শহরে রাতভর চালানো হামলায় একটি বহুতল বাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে এবং সেখানে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আল-রাফিদ এবং আল-হুশ শহরে পৃথক ড্রোন ও বিমান হামলায় আরও ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছে। শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ লেবাননের কাফার শহরে যখন ‘ইসলামিক হেলথ অথরিটি’র একটি সিভিল ডিফেন্স (উদ্ধারকারী) দল আগের হামলায় আহতদের বাঁচাতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই তাদের ওপর সরাসরি গুলি ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা।
এই হামলায় উদ্ধারকারী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। উপর্যুপরি বোমাবর্ষণের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলগুলোতে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে বহু আহত মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা এই হামলার পর সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বড় প্রতিক্রিয়া না জানানো হলেও, বিশ্লেষকদের মতে ইসরায়েলের এই উসকানিমূলক হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক দীর্ঘস্থায়ী ও সর্বগ্রাসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এনএন/ ২৪ মে ২০২৬









