জাতীয়

বেগম খালেদা জিয়াকে দেখেই রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছি: হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ঢাকা, ২২ মে – প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক আবেগঘন ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অকপটে স্বীকার করেছেন যে, গৃহবধূ থেকে দেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দেখেই তিনি মূলত রাজনীতিতে আসতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।

আজ শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘দেশনেত্রী’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মৃতি বর্ষপঞ্জির (ক্যালেন্ডার) মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক ঐতিহাসিক দাবি করেন। তিনি বলেন, “রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণায় পেছন থেকে যিনি সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছিলেন, তিনি আর কেউ নন—স্বয়ং বেগম খালেদা জিয়া। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে একটা সময় রাজনীতিবিমুখ একজন মানুষ ছিলাম। কিন্তু এই মহান নেত্রীর অদম্য পথচলা দেখেই আমার রাজনীতিতে আসা।”

বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করে স্পিকার আরও বলেন, ‘বেগম জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনার অনন্য দক্ষতা এবং একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে উঠে এসে শক্ত হাতে দেশের হাল ধরার যে অসীম ক্ষমতা, তা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। আর সেই মুগ্ধতা থেকেই আমি রাজনীতিতে যোগ দিই।’

নেত্রীর ব্যক্তিগত গুণাবলীর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বেগম জিয়া ছিলেন অত্যন্ত স্বল্পভাষী এবং মার্জিত। রাজনৈতিক চরম শত্রু বা কারও বিপক্ষেই তিনি কখনও কোনো ধরনের কুরুচিপূর্ণ বা বিরূপ মন্তব্য করতেন না।” তিনি যে সাধারণ মানুষের কতটা গভীরে মিশে থাকা নেতা ছিলেন, তা তাঁর মৃত্যুর পরই সবচেয়ে ভালো বোঝা গেছে। তাঁর চলে যাওয়ায় দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার আপামর মানুষ যেভাবে ব্যথিত ও শোকাচ্ছন্ন হয়েছিল, তা দেশবাসীর মনে চিরকাল দাগ কেটে থাকবে।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ছাড়াও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

এনএন/ ২২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language