ওমান

ওমানে বাংলাদেশি ৪ ভাইয়ের রহস্যমৃত্যু: শপিং শেষে ফেরার পথে গাড়িতেই নিথর দেহ!

মাস্কাট, ১৪ মে – ভাগ্য বদলাতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন একই পরিবারের চার ভাই। স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাবেন। এমনকি আগামীকালই (১৫ মে) দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফেরা হলো কফিনে বন্দী হয়ে। ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি স্থির গাড়ির ভেতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার সহোদরের মরদেহ উদ্ধার করেছে ওমান পুলিশ।

নিহত চার ভাই হলেন মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা সবাই রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আবদুল মজিদের ছেলে। পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এই চারজনই ওমান প্রবাসী ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে ওমান পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির ছিল। এর ফলে গাড়ির এসি থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস (সম্ভবত কার্বন মনোক্সাইড) নির্গত হয়ে ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করার ফলে তারা গাড়ির ভেতরেই অচেতন হয়ে পড়েন এবং সেখানেই তাদের মৃত্যু ঘটে। তবে স্থানীয়ভাবে এসি বিস্ফোরণের একটি সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মে দেশে ফেরার কথা ছিল দুই ভাইয়ের। সেই আনন্দেই তারা উপহার সামগ্রী কিনতে শপিংয়ে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন অন্য দুই ভাইও। কেনাকাটা শেষে বাসার উদ্দেশ্যে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে এখন কেবল একজনই অবশিষ্ট আছেন, যিনি বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

একসঙ্গে চার জোয়ান ছেলেকে হারিয়ে রাঙ্গুনিয়ার লালানগরে নিহতের মা-বাবা এখন নির্বাক। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মরদেহগুলো বর্তমানে ওমান পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে।

এনএন/ ১৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language