জাতীয়

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে ৯ম পে স্কেল

ঢাকা, ০২ মে – দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল চালুর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কমিটি নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত কাঠামো যাচাই-বাছাই করছে। পুনর্গঠিত বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই নতুন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতোমধ্যে নীতিগতভাবে এ বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা জরুরি। এজন্য পুরো বেতন বৃদ্ধি একসঙ্গে না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক বেতন বাড়ানোর বিষয়টি ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রায় এক দশকের বেশি সময় পার হলেও নতুন কোনো পে-স্কেল কার্যকর হয়নি, যা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে যেখানে একজন কর্মচারীর মোট মাসিক আয় তুলনামূলকভাবে সীমিত, সেখানে নতুন কাঠামোতে তা কয়েকগুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

সবমিলিয়ে, নবম পে-স্কেল চালু হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এনএন/ ০২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language