জাতীয়

রোববার শুরু হচ্ছে চার দিনের ডিসি সম্মেলন, আলোচনায় আসছে ৪৯৮ প্রস্তাব

ঢাকা, ০২ মে – দেশের মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমন্বয়মঞ্চ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আলোচনার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হুমায়ুন কবির। তারা জানান, এবারের সম্মেলনে সারা দেশ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যার মধ্য থেকে বাছাই করে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৪৯৮টি।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধন হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন, ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এ আয়োজনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিসি সম্মেলনকে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির জানান, এবারের প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ কমানো, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, পর্যটন খাতের প্রসার, আইন ও বিধিমালা সংশোধন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতসংক্রান্ত প্রস্তাবই সর্বাধিক—৪৪টি।

চার দিনের এ সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণের অধিবেশন রয়েছে। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে পৃথক কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে অংশ নেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ দুটি কমিশন—নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন—এবং ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। কার্য-অধিবেশনগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

আলোচ্যসূচিতে থাকছে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, ই-গভর্নেন্স, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

গত বছরের তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনে ৪০০টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, যার মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৪ শতাংশ। এবারের সম্মেলনে সেই বাস্তবায়ন হার বাড়ানো এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে জোর দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সবমিলিয়ে, নতুন সরকারের অধীনে আয়োজিত এবারের ডিসি সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনএন/ ০২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language