ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে মার্কিন ব্যয় নিয়ে পেন্টাগনের তথ্য গোপনের অভিযোগ ইরানের

তেহরান, ১ মে – ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েলের যুদ্ধ ব্যয় নিয়ে পেন্টাগনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি আর্থিক বোঝা চেপেছে। এই অঙ্ক পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক হিসাবের চেয়ে অন্তত চারগুণ বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন। আরাঘচি আরও সতর্ক করেন যে, মার্কিন করদাতাদের জন্য এই যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ।
বর্তমানে প্রতিটি আমেরিকান পরিবারকে মাসে গড়ে অতিরিক্ত ৫০০ ডলার করে খরচ করতে হচ্ছে এবং এই ব্যয় ক্রমবর্ধমান। তার মতে, ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে ওয়াশিংটন মূলত নিজের দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে। অন্যদিকে খোদ মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরেও পেন্টাগনের দেওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন কেবল সরাসরি অভিযানের খরচ প্রকাশ করছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর যে
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের যে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে তা এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পুনর্গঠন ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ যোগ করলে এই অঙ্ক ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একাডেমিক বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেস আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই যুদ্ধের মোট ব্যয় শেষ পর্যন্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন যুদ্ধের প্রথম ৪০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। বিলমেসের মতে, পেন্টাগন সম্পদের পুরনো মূল্য হিসাব করলেও বর্তমানে সেগুলো প্রতিস্থাপন করতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে। এছাড়া যুদ্ধে নিয়োজিত প্রায় ৫৫ হাজার সেনার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসেবা ও পঙ্গুত্ব ভাতার আর্থিক বোঝা মার্কিন অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের দৃষ্টান্ত টেনে বলেন যে, জনগণের আবাসন ও শিক্ষার জন্য অর্থের সংকট থাকলেও যুদ্ধের জন্য সবসময় বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
এস এম/ ১ মে ২০২৬









