পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ের নেপথ্যে আই-প্যাক ও আইটি সেলের আধিপত্য

কলকাতা, ২৭ এপ্রিল – পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। রাজ্যের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব এখন আর পুরোপুরি স্থানীয় নেতাদের হাতে নেই। পরিবর্তে এই গুরুদায়িত্ব পালন করছে দুটি ভিন্নধর্মী পেশাদার গোষ্ঠী। তৃণমূল কংগ্রেসের রণকৌশল সাজাচ্ছে আই-প্যাক এবং বিজেপির প্রচার সামলাচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় আইটি সেল। সাত বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর পরামর্শদাতা হিসেবে আই-প্যাককে নিযুক্ত করেন তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জী।
প্রশান্ত কিশোরের হাতে গড়া এই সংস্থার পরামর্শে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জীর দল প্রভূত সাফল্য পায়। বর্তমানে তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে জেলা থেকে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আই-প্যাকের পেশাদার কর্মীরাই মূল ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি প্রার্থী বাছাই ও প্রচারের বিস্তারিত রূপরেখা নির্ধারণেও এই পেশাদাররাই শেষ কথা বলছেন। অন্যদিকে বিজেপিও স্থানীয় নেতাদের চেয়ে বাইরের থেকে আসা নেতাদের কৌশলের ওপর বেশি ভরসা করছে।
এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করছেন অমিত মালভিয়া। কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে পরিচালিত হচ্ছে বিজেপির নির্বাচনী কর্মকাণ্ড। নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহের সফরের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে কোন আসনে কাকে দিয়ে বক্তৃতা করানো হবে তা সবই ঠিক করছে আইটি সেলের পেশাদার দল। দুই দলের নেতাদের বক্তব্যেও এখন এই সংস্থাগুলোর তৈরি করে দেওয়া সুনির্দিষ্ট চিত্রনাট্যের প্রভাব স্পষ্ট। তৃণমূলের একজন বিধায়ক জানিয়েছেন যে তারা এখন নির্ধারিত স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী কাজ করছেন। ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে চিরাচরিত কৌশলের বদলে এখন কর্পোরেট ঘরানার পেশাদারিত্বের লড়াই প্রকট হয়ে উঠেছে।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬









