ঝালকাঠিতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

ঝালকাঠি, ১৮ এপ্রিল – ঝালকাঠি জেলায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে জেলার চারটি উপজেলার জনজীবন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। চলমান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নলছিটির সুমাইয়া আক্তার জানায়, দিন ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তার পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
অতিরিক্ত গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিব হোসেন জানায়, সন্ধ্যার সময় যখন পড়াশোনার চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, তখনই লোডশেডিং বেশি হয়। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিকমতো নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরাও এই সংকটে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঝালকাঠি শহরের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকানে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী রাত ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হয়, ফলে সব মিলিয়ে তারা আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় দিনের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পর তা বেড়ে ২৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপসহকারী প্রকৌশলী জাকিরুল ইসলাম জানান, গ্রিড থেকে পাওয়া বরাদ্দ অনুযায়ী রোটেশন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহে বড় ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং করা ছাড়া উপায় থাকছে না। ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. জুলফিকার রহমান বলেন, উপজেলাগুলোতে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও মিলছে না, যার ফলে এলাকাভেদে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এস এম/ ১৮ এপ্রিল ২০২৬








