২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হতে পারে

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল – আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হতে পারেন। ক্রমবর্ধমান স্থূলতা এবং রক্তে অতিরিক্ত শর্করার মাত্রাই এই ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রধান কারণ বলে চিহ্নিত হয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেস ইনজ্যুরিস অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডি থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল ল্যানসেট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ বা এমএএসএলডি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত এবং দ্রুত বর্ধনশীল লিভারের রোগগুলোর একটি। পূর্বে এই রোগটি নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নামে পরিচিত ছিল। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১৩০ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। গত তিন দশকে এই রোগে আক্রান্তের হার ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের প্রতি ছয়জনের মধ্যে প্রায় একজন অর্থাৎ ১৬ শতাংশ মানুষ এই জটিল রোগে আক্রান্ত।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন আগামী দিনগুলোতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন মাত্রাতিরিক্ত স্থূলতা এবং রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রাই এর প্রধান কারণ। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০ সালে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ এমএএসএলডি নিয়ে জীবনযাপন করছিলেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১৩০ কোটিতে পৌঁছায়। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১৮০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াতে পারে যা ২০২৩ সালের তুলনায় অন্তত ৪২ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতি ১ লাখে ১৪ হাজার ৪২৯ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
এই হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এমএএসএলডি রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে ৮০ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। তবে সংখ্যাগত দিক থেকে ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী পুরুষ এবং ৫৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী নারীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী এমএএসএলডি জনিত স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রাকে দায়ী করা হয়েছে।
এর পরপরই রয়েছে উচ্চ বিএমআই এবং ধূমপানের প্রভাব। এই কারণগুলো মূলত টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার সাথে রোগটির শক্তিশালী সম্পর্ককে প্রমাণ করে। উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মতো কিছু অঞ্চলে এই রোগের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রতিটি দেশেই লিভারের এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
এস এম/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬









