পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক বৈঠক শুরু

ইসলামাবাদ, ১১ এপ্রিল – পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে ইসলামাবাদে। এই আলোচনাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম শাসনামলে এই পরমাণু চুক্তিটি বাতিল করেছিলেন।
একই বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সরাসরি আলোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে ছয় সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরুর সময় এক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত হন। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় যোগ দেবে না বলে জানালে এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অবশেষে সেই বাধা দূর হওয়ায় এই ঐতিহাসিক সংলাপের পথ প্রশস্ত হয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কার্যসূচি নির্ধারণের পর সরাসরি বৈঠক হতে পারে। বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির মূল ভিত্তি হবে তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা।
চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে বলেও তিনি জানান। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা। অন্যদিকে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে রয়েছে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশবাসীকে সাফল্যের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সমন্বিত হামলা চালায়। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং সামরিক ও বেসামরিক বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাঁচ সপ্তাহে ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে।
এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬









