মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালীতে ব্যারেলপ্রতি এক ডলার শুল্ক বসালো ইরান, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

তেহরান, ৯ এপ্রিল – হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ব্যারেলপ্রতি এক ডলার করে শুল্ক বা টোল আদায়ের অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের এমন পদক্ষেপে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর।

তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এখন থেকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে হলে আগেভাগেই ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা চীনা ইউয়ানে টোল পরিশোধ করতে হবে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে ট্রানজিট অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। যেসব জাহাজ এই নতুন নিয়ম মানছে না তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে ব্রডকাস্ট বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে দৈনিক জাহাজের যাতায়াত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত সেখানে এখন হাতেগোনা ১০ থেকে ১৫টি জাহাজকে অত্যন্ত কড়াকড়ির মধ্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় এলাকায় কয়েকশ ট্যাংকার আটকে পড়েছে। শিপিং কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে একটি বিশাল গাড়ির পার্কিং লটের সাথে তুলনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রভাব জাহির করতেই তেহরান এই অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে।

পাশাপাশি ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে তারা পেমেন্টের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে ইউয়ান ও বিটকয়েনকে। সাধারণত সুয়েজ বা পানামা খালের মতো মানবসৃষ্ট পথে টোল আদায়ের বৈধতা থাকলেও হরমুজ প্রণালীর মতো প্রাকৃতিক জলপথে এমন কোনো ফি নেওয়ার অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো দেশের নেই।

ওমানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীর এই সংকটময় পরিস্থিতি শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। সার পেট্রোকেমিক্যাল এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহও এর ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এস এম/ ৯ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language