মধ্যপ্রাচ্য

লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণায় অনড় ইসরায়েল, অভ্যন্তরীণ চাপে নেতানিয়াহু

বৈরুত, ৯ এপ্রিল – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও লেবানন ফ্রন্টে হামলা অব্যাহত রাখার বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল। শুরু থেকেই ইসরায়েলি প্রশাসন ইরান এবং হিজবুল্লাহর ফ্রন্ট দুটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে আসছে। তাই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। যুদ্ধবিরতির আলোচনার পর থেকেই লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মতে, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতাকে তারা প্রথমদিকে অবমূল্যায়ন করেছিল। তাদের ধারণা, হিজবুল্লাহ আগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে বর্তমানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে এবং হাজার হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা ও বিপুল সংখ্যক রকেট নিয়ে তারা এখনও সক্রিয় রয়েছে। এই দাবিকে সামনে রেখেই লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে চাইছে তেল আবিব।

অন্যদিকে শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চরম সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের মতো যেসব বড় প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাস্তব বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে এই চরম ব্যর্থতা ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার চেয়েও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বেশি হুমকিস্বরূপ। আসন্ন সম্ভাব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডও এখন প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করছেন। এই জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে নেতানিয়াহু আগামী দিনগুলোতে কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করেন, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এস এম/ ৯ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language