দক্ষিণ এশিয়া

বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় কুমির ও সাপ নামানোর কথা ভাবছে বিএসএফ

নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল – প্রাচীনকালে দুর্গ বা প্রাসাদের চারপাশ সুরক্ষিত রাখতে পরিখা খনন করে তাতে কুমির ছেড়ে দেওয়ার কৌশল ইতিহাসে বেশ পরিচিত। একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেই ঐতিহাসিক কৌশলই যেন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ভারত এবং বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমি রক্ষায় এবার কুমির এবং সাপের মতো সরীসৃপ মোতায়েন করার কথা ভাবছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের একটি বড় অংশ নদীমাতৃক বা জলাভূমি বেষ্টিত। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষ থেকে আসা এক নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএসএফ এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে।

গত ২৬ মার্চ বিএসএফের ইস্টার্ন এবং নর্থ ইস্টার্ন সেক্টর সদর দপ্তরে পাঠানো এক গোপন বার্তায় বলা হয় যেসব নদীপথ বা পাহাড়ি ছড়ায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয় সেখানে অপারেশনাল প্রয়োজনে সাপ বা কুমির মোতায়েন করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।

ভারতের এই পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পুরনো পরিকল্পনার অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডায় অলিগেটর আলকাট্রাজ নামে একটি ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবেই কুমির ও অজগর থাকে যা বন্দিদের পালানো রোধে কাজ করে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে রিও গ্র্যান্ডে নদীতেও এমন ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলেন। যদিও পরে তিনি তা কৌতুক হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তবে ভারত বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে বলে জানা যায়।

বিএসএফ বর্তমানে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত ২ দশমিক ৬৫ লাখ কর্মীর একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা নির্বাচনি দায়িত্বের মতো অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকে। এছাড়া বাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং আরও ২০ শতাংশ সদস্য শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট নন। মূলত এই বিশাল জনবল সংকট মেটাতেই প্রকৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিনব চিন্তা করা হচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আওতায় ই বর্ডার বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে পুরোদমে।

তবে বিশাল সীমান্তের মধ্যে এখনও প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এলাকা বেড়াহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার একেবারেই অনুপযুক্ত। মূলত এই দুর্গম এলাকাগুলোতেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে সরীসৃপ মোতায়েনের এই বিকল্প ও কঠোর পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনএন/ ৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language