তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে মধ্যরাতে বাঘাবাড়ী ডিপোতে জ্বালানি মন্ত্রীর হানা

সিরাজগঞ্জ, ২৮ মার্চ – রাত তখন ১০টা। সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর নিজ বাসভবন থেকে বের হন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সঙ্গে পুলিশ প্রটোকল থাকলেও গন্তব্য ছিল সবার অজানা। সার্কিট হাউজে গিয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মহাসড়কের দিকে রওনা দেন। গাড়িবহর নিয়ে একটানে শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে পৌঁছান মন্ত্রী।
তখন রাত প্রায় পৌনে ১২টা। ডিপোর গেট বন্ধ থাকায় পুলিশের ডাকে গেটম্যান তড়িঘড়ি করে গেট খুলে দেন। খবর পেয়ে ডিপো ইনচার্জও দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন। মন্ত্রী এরপর পুরো ডিপো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরিদর্শন শেষে জ্বালানি মন্ত্রী জানান, সরকার সব ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছে। কিন্তু এরপরও বাজারে তেলের হাহাকার দেখা যাচ্ছে। এই সংকট নিরসন এবং তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই তার এই আকস্মিক পরিদর্শন।
তিনি ডিপো ইনচার্জদের কড়া নির্দেশ দেন যাতে প্রতিটি পাম্পে ঠিকমতো তেল পৌঁছায়। কোনো পাম্পে তেল যায়নি এমন অভিযোগ যেন আর না আসে সে বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করেন। মন্ত্রী আরও জানান, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে কোনো সিন্ডিকেট বা চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় আছে কি না তা খতিয়ে দেখতেই মূলত এই গভীর রাতের অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নিবিড় নজরদারি চালানো এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো থেকে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২০টি জেলার পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে রেশনিং পদ্ধতিতে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ থেকে ২৮০টি পাম্পে তেল পাঠানো হচ্ছে।
এস এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬









