খামেনিকে হত্যার সুযোগ নিতে ট্রাম্পকে রাজি করান নেতানিয়াহু: রয়টার্স

তেহরান, ২৫ মার্চ – আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খামেনিকে হত্যার সুযোগ নেওয়ার জন্য জোরালো যুক্তি দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। টেলিফোনে এই দুই নেতার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু আগে থেকেই জানতেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার শীর্ষ সহযোগীরা তেহরানের একটি কমপ্লেক্সে গোপন বৈঠকে মিলিত হবেন। নতুন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ওই বৈঠকের সময় শনিবার রাতের পরিবর্তে শনিবার সকালে নির্ধারণ করা হয়।
এই ফোনালাপের বিষয়টি এর আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। নেতানিয়াহু যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে খামেনিকে হত্যার জন্য এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কখনো পাওয়া নাও যেতে পারে। তিনি ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দেন যে ইরান এর আগে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্পকে হত্যার একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে। মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি এক পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যিনি কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন।
সূত্র জানায়, ফোনালাপের সময় পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিলেও কখন বা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে তা চূড়ান্ত করেননি। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করছিল যা প্রশাসনের অনেককে ইঙ্গিত দেয় যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময়ের ব্যাপার মাত্র। খারাপ আবহাওয়ার কারণে এর আগে সম্ভাব্য একটি হামলার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি নেতানিয়াহুর যুক্তি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলেছিল। তবে খামেনিকে হত্যার সুযোগ হাতছাড়া না করার গোয়েন্দা তথ্য এবং এই ফোনালাপ ট্রাম্পের ২৭ ফেব্রুয়ারি অপারেশন এপিক ফিউরি চালুর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি ইতিহাস গড়তে পারেন এবং খামেনির মৃত্যু হলে ইরানের জনগণ ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে রাস্তায় নেমে আসবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে প্রথম বোমা হামলা শুরু হয় এবং ওই দিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির নিহতের খবর ঘোষণা করেন।
এস এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬









