মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

তেহরান, ২৪ মার্চ – টানা ২৫ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায়। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ওই দিন থেকেই ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে পুরো অঞ্চল এখন অগ্নিগর্ভ। ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে ইরান একের পর এক হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারছে না।
এমন এক যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই খবর বেরিয়েছে যে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তুরস্ক ও মিসরও পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল এবং গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বের বাণিজ্যে। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু সোমবার হঠাৎ করেই তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন।
ট্রাম্প জানান, আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। তবে তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। কিন্তু ইউরোপীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনা না হলেও পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। মিসর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদানের কাজ করছে। পাকিস্তানি ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে বৈঠক হতে পারে।
ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রতিনিধিদলে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দুই কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার থাকতে পারেন। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন সে দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দ্য টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইটকফ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের বিষয়ে কিছু জানায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে তুরস্ক, মিসর এবং পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করছে। এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্প্রতি উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস অনুযায়ী, সংঘাত থামাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চাইছে। ইসলামাবাদে দুই পক্ষের সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাবও পাকিস্তান প্রশাসন দিয়েছিল। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কথা হয়। এরপর সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
এস এম/ ২৪ মার্চ ২০২৬









