ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্য, ২৩ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে এক চরম বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব হতো।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত সরাসরি এসব দেশের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতো। মার্কিন হুমকির জবাবে ইরানও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে। তেহরান জানায়, তাদের ওপর হামলা হলে পশ্চিম এশিয়ার সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
এই তালিকার মধ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের এই সতর্কবার্তাকে ওই অঞ্চলের নেতারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে পানযোগ্য পানির প্রায় নব্বই শতাংশই আসে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ বা ডিস্যালিনেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বিদ্যুৎ নির্ভর। তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে পানির সরবরাহ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ জীবনযাত্রার মৌলিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিণতি হিসেবে এমন এক সংঘাত শুরু হতো যা আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাই এ ধরনের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর পাশাপাশি আগামী পাঁচ দিন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পরপরই ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আপাতত হামলা না চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল।
দেশটির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে যে তারাও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনার বিষয়ে পুরোপুরি অবগত। সার্বিক পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল সম্ভবত ওয়াশিংটনের নীতি অনুসরণ করেই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা থেকে বিরত থাকবে।
এ এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬









