ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সিলেট

সিলেট, ২৩ মার্চ – ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলো। পাহাড়, নদী ও চা বাগানের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ সিলেটে ভিড় জমাচ্ছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল, লোভাছড়া এবং ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের মতো স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এবারের ঈদে দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় পর্যটকরা শুধু সিলেট নয়, বরং আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতেও ছুটে যাচ্ছেন।
এর মধ্যে মালনিছড়া ও লাক্কাতুরা চা বাগান, হযরত শাহজালাল ও শাহপরান মাজার, আলী আমজাদের ঘড়ি, কিন ব্রিজ, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, টাঙ্গুয়ার হাওর এবং জাদুকাটা নদীর মতো জনপ্রিয় স্থানগুলোতে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। রবিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টসহ আশপাশের চা বাগানগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বচ্ছ জলরাশি আর পাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করেছে।
কুমিল্লা থেকে আগত পর্যটক ফাহিমা আক্তার জানান যে তিনি আগে কেবল ছবিতেই এমন সৌন্দর্য দেখেছেন এবং বাস্তবে তা দেখে তিনি অভিভূত। তীব্র গরমের মধ্যেও বিভিন্ন স্থান ঘুরে তার বেশ ভালো লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আরেক পর্যটক শাকিল জানান, চা বাগানের সবুজ পরিবেশ তার কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে সময় কাটানো তার জন্য আনন্দের ছিল। রংপুর থেকে আসা সোহেল আহমদ জানান যে সাদা পাথরের শীতল জল তার মনকে সতেজ করেছে। তবে নৌকার ভাড়া কিছুটা বেশি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঢাকা থেকে আসা সোমা ও পার্থ জানান, তীব্র গরম থাকা সত্ত্বেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে তারা দারুণ আনন্দিত। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ওয়াশরুমের অভাব রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন এবং প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আগতদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এস এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬









