ঈদের ছুটিতে চাঁদপুরে তিন নদীর মোহনায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

চাঁদপুর, ২৩ মার্চ – চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৭ লাখ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো পর্যটন কেন্দ্র না থাকায় তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন মোলহেড হয়ে উঠেছে প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে জেগে ওঠা চর সমুদ্র সৈকতের আবহ তৈরি করে। এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই মোহনায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বাইরের অঞ্চল থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে অসংখ্য মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। দিনের বিভিন্ন সময়ে এই মোহনা ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সেজে ওঠে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয়রা জানান মোহনার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে থাকা ট্রলার এবং স্পিড বোট দিয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার নামক স্থানে ঘুরে আসা যায়। ট্রলারে জনপ্রতি ১০০ টাকা এবং স্পিড বোটে ৩০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিকেল ৫টার মধ্যে দর্শনার্থীদের মোহনায় ফিরে আসতে হয়। কচুয়া থেকে আসা দর্শনার্থী শাহাদাত হোসেন ও শিক্ষক সোলাইমান জানান এই স্থানটির প্রাকৃতিক দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। বিশেষ করে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের প্রকৃত আনন্দ এখানেই পাওয়া যায়।
ফরিদগঞ্জ থেকে আসা আল-আমিন ও তার বন্ধুদের মতে ঈদের ছুটিতে সময় কাটানোর জন্য মোহনা এক চমৎকার স্থান। চাঁদপুর বারের আইনজীবী ও লেখক রফিকুজ্জামান রনি জানান সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় উৎসবের সময় মোহনায় ভিড় বাড়ে। এবার অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করায় পরিবেশ আরও সুন্দর হয়েছে। সাংস্কৃতিক সংগঠক শরীফ চৌধুরী মনে করেন সরকারিভাবে এখানে বড় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ এবং নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএমএস ইকবাল জানান পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও নৌ পুলিশ সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে এবং মোহনা এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
এস এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬









