মধ্যপ্রাচ্য

ইরান সংঘাত: ট্রাম্পের দাবি ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় বৈপরীত্য

তেহরান, ২২ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন এবং ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহ পর সংঘাতটি এখন এক চরম অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনসমক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যগুলোর সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতির বেশ কিছু বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে বলে দাবি করলেও মার্কিন মেরিন ইউনিটের মতো শক্তিশালী স্থল বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ট্রাম্প পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কথা বললেও ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের প্রায় বিশ শতাংশ তেল রপ্তানির পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকে সহজ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে কেবল ইরানের অনুমোদিত জাহাজগুলোই সেখানে যাতায়াত করতে পারছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানি সামরিক শক্তি শেষ হয়ে গেলেও তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এমনকি এই হামলার বিস্তৃতি দিয়েগো গার্সিয়ার মার্কিন ও যুক্তরাজ্য যৌথ ঘাঁটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। শনিবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সংঘাত আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় আকারের হামলা শুরু করবে। তবে এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যগুলোর যে তালিকা প্রকাশ করেছিলেন সেখানে হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ওই তালিকায় ইরানের সামরিক বাহিনী, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার কথা বলা হয়েছিল। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ইরানে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা শর্তহীন আত্মসমর্পণের ওপর জোর দিলেও এখন সেই প্রসঙ্গগুলো অনুপস্থিত। তেলের দামের ওঠানামা মার্কিন অর্থনীতিতে প্রভাব ফেললেও ট্রাম্প মনে করেন হরমুজ প্রণালি সুরক্ষার দায়িত্ব পারস্য উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোরই নেওয়া উচিত। এদিকে প্রায় আড়াই হাজার যোদ্ধা ও সরঞ্জামসহ একটি মার্কিন মেরিন ইউনিট জাপান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকেও অপর একটি বাহিনী এপ্রিলের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। এটি সফল হলে ইরানের তেল রাজস্ব মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তবে ট্রাম্প স্থল বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেননি। খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে এমন কিছু ঘটলে তারা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাবে এবং পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন চলমান সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের কাছে দুইশ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এই বিশাল অংকের তহবিলের আবেদন হোয়াইট হাউসের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দেয়। টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য চিপ রয়সহ অন্যান্য আইনপ্রণেতারা এই বিপুল ব্যয়ের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ বর্তমানে এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে যার ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি রহস্যে আবৃত।

এস এম/ ২২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language