মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনার কাছে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

তেল আবিব, ২২ মার্চ – ইসরায়েলের প্রধান পরমাণু স্থাপনার কাছে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি এই হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে কয়েকশ মানুষ হতাহত হয়েছে। ইরানের নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা ও আরাদে অবস্থিত প্রধান পরমাণু স্থাপনার কাছাকাছি এই হামলা ঘটে। ভয়াবহ এই ঘটনার পর আক্রান্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আরাদে ৮৮ জন আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।

অন্যদিকে দিমোনায় দশ বছর বয়সী এক শিশুসহ ৩৯ জন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আহত ওই শিশুর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলাকে কঠিন সন্ধ্যা হিসেবে বর্ণনা করে পুনরায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান হামলার সময় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।

ইসরায়েলের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে দিমোনা ও আরাদ এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করেনি। ফলে শত শত কেজি ওজনের ওয়ারহেডযুক্ত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জানিয়েছে দিমোনায় অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে তারা কোনও ক্ষতির ইঙ্গিত পায়নি এবং সেখানে অস্বাভাবিক বিকিরণ মাত্রাও শনাক্ত হয়নি। সংস্থাটি বর্তমানে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের সহায়তায় গোপনে নির্মিত এই গবেষণা কেন্দ্র চালু হওয়ার পর থেকেই দিমোনা ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ধারণা করা হয় ১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে। তবে পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে তাদের কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতির কারণে এই অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায় না। তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক আব্বাস আসলানি জানান ইরান মূলত চোখের বদলে চোখ কৌশল অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তিনি আরও জানান তেহরান কথার সঙ্গে কাজের ব্যবধান কমাতে চায়। তার মতে ইরানের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এস এম/ ২২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language