আত্মরক্ষায় ইরানের অধিকার আছে, জোর দিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

ওয়াশিংটন, ২১ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইরানের অনস্বীকার্য অধিকার রয়েছে বলে পুনরায় স্পষ্ট করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শনিবার মেহর নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে জাতিসংঘ প্রধান তেহরানের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন এবং মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাতের বিস্তার রোধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকশ নিরপরাধ নারী ও শিশু রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে যে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর হামলায় আবাসিক এলাকা, ব্যবসায়িক কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোসহ প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে ইরানজুড়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে শুরু করেছে তেহরান।
ইরান এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি ও মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যেসব দেশ আক্রমণকারীদের সহায়তা করছে বা নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে, ইরান তাদের স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানছে।
তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই এই পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং কোনোভাবেই নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত মেনে নেবে না। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইরান কড়া বার্তা দিয়েছে যেন তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের ওপর হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা জরুরি বলে মনে করে তেহরান। জাতিসংঘের এই সমর্থন ইরানের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা জোরালো করলেও সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।
এ এম/ ২১ মার্চ ২০২৬








