দক্ষিণ এশিয়া

মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

নয়াদিল্লি, ২১ মার্চ – ইরান প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে শক্তিশালী মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

শনিবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করল। তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে।

ইরানের এই পদক্ষেপকে সামরিক বিশ্লেষকরা উত্তেজনার এক নতুন পর্যায় হিসেবে দেখছেন, কারণ এর আগে ইরান কখনও যুদ্ধের ময়দানে এ ধরনের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়। অন্যটিকে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি যে ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না। এই হামলার সঠিক সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও এটি যে ইরান থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রথম প্রচেষ্টা, তা স্পষ্ট হয়েছে। ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশশাসিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের অংশ এই ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি তেহরান থেকে প্রায় পাঁচ হাজার আড়াইশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এই কৌশলগত দ্বীপটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখান থেকে তারা দূরপাল্লার বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার পরিচালনা করে। ভিয়েতনাম, ইরাক এবং আফগানিস্তান যুদ্ধের সময়ও এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে কাজ করেছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত আট মার্চ দাবি করেছিলেন যে, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের নিচে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তবে এই হামলা প্রমাণ করল যে ইরান এখন তার ঘোষিত সীমার দ্বিগুণ দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরান বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের অধিকারী।

তাদের সংগ্রহে শাহাব, খোররামশাহর এবং হাইপারসনিক ফাত্তাহ সিরিজের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এর আগে গত ষোলো জুন ইরান ইসরায়েলের দিকে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার সেজিল নামের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিয়েগো গার্সিয়ায় এই হামলার চেষ্টা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করার একটি প্রয়াস। এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ এম/ ২১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language