ইরান যুদ্ধের প্রভাব: যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম বাড়ল ১৪০ শতাংশ, ইউরোপে সংকট

লন্ডন, ১৯ মার্চ – ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে গোটা বিশ্ব। এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর ফলে গ্যাস ও তেলের দামে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ১৭১.৩৪ পেন্সে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর ব্রিটেনে গ্যাসের দাম আর কখনও এত বেশি হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন ধরে যাওয়ার কারণে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্য এখনও আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও কাতার থেকে আসা গ্যাস দিয়েই ব্রিটেনের চাহিদা মেটানো হয়। অন্যদিকে ইউরোপ এই যুদ্ধের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন তারা এই যুদ্ধে জড়াতে চান না। তবে যুদ্ধ এড়িয়ে গেলেও ইউরোপ তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। ইউরোপের অন্যতম প্রধান উৎস কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো কার্বন কর কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। পোল্যান্ড এবং ইতালির মতো দেশগুলো এই কর কমাতে চাইলেও স্পেন ও জার্মানি এতে দ্বিমত পোষণ করেছে। দেশগুলো জানিয়েছে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দিকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ কারণে ব্রাসেলসে আসন্ন বৈঠকে জ্বালানি সংকট নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এস এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬









