ইরানি ড্রোন রুখতে মধ্যপ্রাচ্যে দুই শতাধিক বিশেষজ্ঞ পাঠাল ইউক্রেন

কিয়েব, ১৮ মার্চ – ইরানের ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা করতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। ইরানি ড্রোন প্রতিরোধে সহায়তা করার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে দুই শতাধিক সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে দেশটি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান নির্মিত কামিকাজে ড্রোন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ইউক্রেনের। মঙ্গলবার লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি জানান, বর্তমানে ২০১ জন ইউক্রেনীয় অ্যান্টি ড্রোন বিশেষজ্ঞ মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন।
এছাড়া আরও ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। জেলেনস্কির মতে, এই সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানেন কীভাবে শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয় এবং মিত্রদের কীভাবে সহায়তা করতে হয়। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের একাধিক দল ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থান করছে। পাশাপাশি অন্যান্য কয়েকটি দেশের সঙ্গেও তাদের কাজ চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে বেশ কিছু চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, তারা চান না ইরানি শাসনব্যবস্থার এই কৌশল প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে সফল হোক।
একই দিনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গেও বৈঠক করেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ১৩৬ ড্রোন সংগ্রহ করেছে এবং ইরানই রাশিয়াকে এসব ড্রোন ব্যবহার ও উৎপাদনের প্রযুক্তি শিখিয়েছে। গত সপ্তাহেও জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ এবং জর্ডানে সামরিক দল পাঠানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া পরবর্তীতে এই ড্রোনগুলোর আরও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ইরানি শাহেদ ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন উপাদান থাকার স্পষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। স্বল্প খরচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল অবকাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই ড্রোনগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এস এম/ ১৮ মার্চ ২০২৬









