লারিজানিকে হত্যায় মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ জটিল, প্রতিশোধের হুমকি ইরানের

তেল আবিব, ১৮ মার্চ – ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ট্রিটা পার্সির মতে লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিলেও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মূল কারিগর ছিলেন। বিশ্লেষক পার্সি জানান গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মাথায় রেখে ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রেখেছে।
ইসরায়েল শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। তার মতে লারিজানির মৃত্যু ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় প্রভাব না ফেললেও কূটনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। কারণ আলোচনার মাধ্যমে পুরো ইরানি নেতৃত্বকে একসঙ্গে আনতে সক্ষম এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এদিকে লারিজানিকে হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। এক বিবৃতিতে তিনি জানান লারিজানি এবং অন্যান্য শহীদদের হত্যার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সঠিক সময়ে এবং স্থানে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে চূড়ান্ত এবং প্রতিরোধমূলক জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইতোমধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে এক গুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা পরিচালনা করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছিল লারিজানি নিহত অথবা আহত হয়েছেন। পরে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ইরান। আলী লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এবং তাকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
এস এম/ ১৮ মার্চ ২০২৬









