জাতীয়

শহীদ মিনারে শিক্ষার্থী হত্যা: নেপথ্যে নারী ও মাদকের দ্বন্দ্ব

ঢাকা, ১৭ মার্চ – কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও কলেজ শিক্ষার্থী রাকিব হাসানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার নেপথ্যে নারী ও মাদককেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, একজন তরুণীকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এটিকে একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে শাহবাগ থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাকিবের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার পর তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে শিহাব উদ্দিন নামের এক তরুণকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শিহাব জানিয়েছে, এক তরুণীর আমন্ত্রণে সে খুলনা থেকে ঢাকায় আসে। রোববার বিকেলে শহীদ মিনার এলাকায় অপেক্ষার সময় তিন যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই যুবকরা টাকার বিনিময়ে তাকে একটি ছেলেকে মারধরের কাজে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়। শিহাবের দাবি, সে কেবল ছেলেটিকে ধরে রাখার দায়িত্ব পেয়েছিল। তবে হামলার সময় সে নিজেও ছুরিকাঘাত করেছে বলে স্বীকার করেছে।

নিহত রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তারের দাবি, খুলনার এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর জান্নাত মুনকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত। বগুড়ায় একটি অনুষ্ঠানে ওই নারীর সঙ্গে রাকিবের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ওই নারী তাদের বাসায় যাতায়াত শুরু করলে রাকিব তার মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানতে পারেন। এর প্রতিবাদ করায় ওই নারীর বন্ধু সাজিদ প্রায় এক মাস আগে রাকিবকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল।

নিহতের মা রাজিয়া বেগম জানান, রাকিব শেখ বুরহানউদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের ধরা সম্ভব হলে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যাবে।

এনএন/ ১৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language