মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, সুবিধা পাচ্ছে ইরান

তেহরান, ১৬ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শুরুতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এখন ধীরে ধীরে ইরানের দিকে সরে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি দাবি করেছেন যে যুদ্ধের সমাপ্তি তাদের হাতেই রয়েছে। তিনি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং হামলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও ইরানি কর্মকর্তাদের এমন আত্মবিশ্বাসী অবস্থান খুব একটা প্রত্যাশিত ছিল না।

ইসরাইলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর সামনে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রায় বাধাহীনভাবে ইরানের আকাশে অভিযান চালিয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। গভীর গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা অসংখ্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জবাবে ইরানও ইসরাইলের দিকে অসংখ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর বেশিরভাগই প্রতিহত করলেও এসব হামলায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা তুলনামূলক কম সফল হলেও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে কথা বলেছেন এবং ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ওপর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।

জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সামরিক ইতিহাসের অধ্যাপক ড্যানি অরবাখের মতে, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ এখনও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কমে আসায় তারা উপসাগরীয় দেশে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পিটার নিউম্যান মনে করেন, ইরান পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে এবং বর্তমানে তারাই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ করছে। হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও কেউ সাড়া দেয়নি।

এর পাশাপাশি লেবাননেও হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর ফলে লেবাননে অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর বিশ্লেষক ডেভিড উড জানান, হিজবুল্লাহর লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে টিকে থাকা, আর ইসরাইল তাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চায়।

এস এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language