রাজধানীতে জ্বালানি তেল কেনার হিড়িক, যানবাহনের জন্য কোটা বেধে দিল বিপিসি

ঢাকা, ৭ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহনের চালকরা। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ধারাবাহিকতায় শনিবারও ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রির পাম্পগুলোতে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। এই ভিড় অনেক স্থানে মূল সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কিছু পাম্পে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতেও দেখা গেছে। শনিবার সকালে মহাখালী ও বিজয় সরণিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ ক্রেতাই গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে তেল কিনছেন। এতে পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহ কমানোর কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই। সরকার আশ্বস্ত করেছে যে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি যানবাহনে তেল বিক্রির নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সরবরাহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত গুজবের কারণে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছুটির দিনেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প কর্মীরা।
এস এম/ ৭ মার্চ ২০২৬








