মধ্যপ্রাচ্য

জর্ডানে ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ধ্বংস করল ইরান: ব্লুমবার্গ

তেহরান, ৭ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ‘এএন/টিপিওয়াই-২’ রাডার ধ্বংস করেছে ইরান।

জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত এই রাডারটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের হামলায় আরটিএক্স করপোরেশনের তৈরি এই রাডার ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল পর্যবেক্ষণ যন্ত্র হিসেবে কাজ করত।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্র্যাসিস বা এফডিডি জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি ইরানি হামলা পরিচালিত হয়।

প্রাথমিকভাবে এই হামলা প্রতিহত করার দাবি করা হলেও রাডার ধ্বংসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্টের মতে, থাড রাডার লক্ষ্য করে এই হামলা ইরানের অন্যতম সফল সামরিক অভিযান।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সীমিত সংখ্যক থাড ব্যাটারি থাকায় একটি রাডার হারানোও আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় শূন্যতা তৈরি করবে। থাড ব্যবস্থা মূলত বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম।

রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষার ভার পড়েছে স্বল্পপাল্লার প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ওপর, যার পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও ফুরিয়ে আসছে। পেন্টাগন এই সংকট মোকাবিলায় এবং অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে লকহিড ও আরটিএক্স-এর মতো প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে।

এর আগে কাতারে স্থাপিত একটি প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এনএন/ ৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language