মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: তেলের বাজার ও মিত্রদের নিয়ে কঠিন সমীকরণে চীন

বেইজিং, ৭ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার আঁচ এখনো সরাসরি চীনের গায়ে না লাগলেও এর পরোক্ষ প্রভাব অনুভূত হতে শুরু করেছে। স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো তেলের মজুত বেইজিংয়ের হাতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে প্রতিবেশী রাশিয়ার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও তাদের আছে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত চীনা নীতিনির্ধারকরা। কারণ বিষয়টি কেবল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বিনিয়োগের ঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি তাদের সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত।
বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের চলমান বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সেখানে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ধীরগতি, আবাসন খাতের সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য সংকট নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ফিলিপ শেটলার জোন্স সতর্ক করে বলেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে চীনের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো চীন সামরিক জোটে বিশ্বাসী নয় এবং মিত্রদের রক্ষার জন্য যুদ্ধে জড়ানোর মতো সামরিক সক্ষমতাও তাদের সীমিত। যদিও ২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের তেহরান সফরের পর চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক গভীর হয়েছে এবং ২০২১ সালে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তবুও বেইজিং সবসময় সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলার নীতি মেনে চলে। ইরান থেকে চীনের তেল আমদানি অব্যাহত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মালয়েশীয় তেল হিসেবে লেবেল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে এশিয়ায় ভাসমান স্টোরেজে বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল মজুত রয়েছে।
তবে চীনের এই সম্পর্ক মূলত লেনদেনভিত্তিক এবং আদর্শিক নয় বলে মনে করেন কিংস কলেজের অধ্যাপক কেরি ব্রাউন। তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান বিরক্তির কারণ হওয়ায় কৌশলগতভাবে চীন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে চীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে সামনে রেখে বেইজিং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চীন নিজেকে একজন স্থিতিশীল বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন অর্থনৈতিক শক্তি হলেও সামরিক পরাশক্তি হিসেবে মিত্রদের রক্ষা করার মতো সক্ষমতা অর্জনে চীনের এখনো সময় প্রয়োজন।
এস এম/ ৭ মার্চ ২০২৬









