ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে বাতিল

ওয়াশিংটন, ৫ মার্চ – ইরানের রণক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিসাইল হামলার ঘটনার রেশ ওয়াশিংটনের রাজনীতিতেও প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেছে।
বুধবার সিনেটে ভোটাভুটিতে ৪৭-৫২ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। রিপাবলিকানদের প্রবল বিরোধিতার কারণেই মূলত এই উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।
বিদেশের মাটিতে প্রেসিডেন্টের সামরিক তৎপরতা সীমিত করার পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের জন্য এই ফলাফল একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ভোটাভুটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রিপাবলিকানরা বর্তমান প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তের প্রতি কতটা অবিচল। একই ধরনের একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে তোলার কথা থাকলেও সেখানেও এটি পাসের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সিনেটে দিনভর চলা বিতর্কে প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করেন যে ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে এই যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প তার সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করেছেন। মার্কিন সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির মুখে কেবল আত্মরক্ষার খাতিরেই প্রেসিডেন্ট আক্রমণ চালাতে পারেন। অন্যথায় যুদ্ধ ঘোষণার একক ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
সিনেট ফ্লোরে কথা বলার সময় সিনেটর টিম কেইন যুক্তি দেন যে গোপনীয় ব্রিফিংগুলোতেও ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যা দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো আসন্ন হামলার হুমকি ছিল। অন্যদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের সপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে আসছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করছিল। রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ যুদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেন যে গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের শত্রুতামূলক আচরণই প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দেয়।
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ জানিয়েছেন মার্কিন সামরিক অভিযান মাত্র শুরু হয়েছে এবং ওই অঞ্চলে আরও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। যুদ্ধের পরিধি বা সময়সীমা অস্পষ্ট থাকলেও ট্রাম্প ধারণা দিয়েছেন এটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন এই ভোটাভুটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে নির্বাচনের বছরে ভোটাররা মনে রাখবেন কারা যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এনএন/ ৫ মার্চ ২০২৬









