জাতীয়

সিলেটে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় ১০ নেত্রী

সিলেট, ২৫ ফেব্রুয়ারি – সিলেটে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সিলেট বিভাগে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই চার জেলায় অন্তত ১০ জন নারী নেত্রী দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে সক্রিয় হয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা হচ্ছে—ত্যাগ, মাঠের সক্রিয়তা, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কে এমপি হবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগে সংরক্ষিত নারী আসনে মূলত দুজনের সুযোগ থাকতে পারে। তবে যারা আগ্রহী, তারা মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সমানভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে ও লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের তিনবারের কাউন্সিলর সাবিনা খান পপি। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে শাম্মী আক্তারকে ত্যাগী নেত্রী হিসেবে দেখা হয়। তবে সাম্প্রতিক শারীরিক অসুস্থতা তার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।অন্যদিকে সাবিনা খান পপির বাবা বিএনপির কঠিন সময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে ছিলেন।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে তারেক রহমান প্রয়াত কমর উদ্দিনের অবদানের কথা স্মরণ করায় পপিকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এছাড়া আলোচনায় আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত ড. মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী ও সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী, জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী অ্যাডভোকেট জেবুন নাহার সেলিম এবং সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা নজির।

আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) এলাকায় ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। গণ-আন্দোলনের পর এলাকায় তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি তৃণমূলের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

সিলেট-৬ আসনে সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন পিতার রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বড় শোডাউনের মাধ্যমে সবার নজর কাড়েন। রোকশানা বেগম শাহনাজ সিলেট সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্যানেল মেয়র হিসেবে পরিচিত। গত নির্বাচনে নারী ভোটার সংগঠনে তার ভূমিকা দলীয় মহলে প্রশংসা পেয়েছে।

অন্যদিকে সামিয়া বেগম চৌধুরী জ্যেষ্ঠতা এবং কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আলোচনায় এগিয়ে আছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নিও কেন্দ্র পর্যন্ত তার লবিং জোরদার করেছেন।

তাহসিন শারমিন তামান্না পারিবারিক ত্যাগের কারণে সহমর্মিতা পাচ্ছেন। আর জেবুন নাহার সেলিম ও সালমা নজির নিজেদের স্বামীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে মনোনয়নের আশায় সক্রিয় আছেন।

সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ত্যাগী পরিবারের সদস্য, রাজপথে সক্রিয় নেত্রী এবং উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে কেন্দ্র থেকে। তবে এরই মধ্যে চার জেলায় নানা আলোচনা-জল্পনা চলছে। শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনের টিকিট কার ভাগ্যে যাবে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এনএন/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language