কক্সবাজার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের সামনে বড় পরীক্ষা: কক্সবাজার সীমান্তে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ ও নতুন কৌশল

 

কক্সবাজার, ২১ ফেব্রুয়ারি – কক্সবাজার সীমান্তের ইয়াবা চোরাচালান রোধ করা নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই অঞ্চলের সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে স্থানীয় মাদক সমস্যা সমাধানের দায়ভার তার ওপর বিশেষভাবে বর্তায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত ইয়াবার চালান প্রবেশ করছে এবং গত দুই বছরে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ হলেও এর সহজলভ্যতা কমেনি।

স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, জব্দের পরিমাণ বৃদ্ধি মূলত সরবরাহের আধিক্যকেই নির্দেশ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে নৌ-চলাচল এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এবার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও সোর্সভিত্তিক অপারেশনের কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়।

টেকনাফ ও নাফ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ড্রোন নজরদারি, সীমান্তের প্রধান রুটগুলোতে বিশেষ মোবাইল ইউনিট এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সশস্ত্র উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, ২০২২-২৫ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৪৪টি ইয়াবা মামলার রায় হয়েছে এবং সাজার হার আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং মিয়ানমার থেকে পরিচালিত চক্রগুলো স্থানীয়দের ব্যবহার করে পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পাচারকারীরা এখন নৌরুটের পাশাপাশি রেলপথেও মাদক পরিবহন করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক স্ক্যানার ও পর্যাপ্ত সংখ্যক ড্রাগ ডিটেকশন ডগ বা বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান মনে করেন, শুধুমাত্র কঠোর আইন প্রয়োগ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তার মতে, উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলের মানুষের বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট তাদের এই বিপথগামী চক্রে জড়াতে বাধ্য করে। তাই অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা মাদক নির্মূলের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

এস এম/ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language