নতুন সরকারে তিন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী: নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক বিধান

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি – বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার জন্য তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জানা গেছে তাদের মধ্যে দুজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী আসলে কারা এবং কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই মন্ত্রী হন। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনীতি, আইন, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিক কূটনীতির মতো জটিল ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলো দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে অনেক সময় বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হয়। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের অভাব থাকে অথবা নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়, তখন সংসদের বাইরে থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদেরই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয় এবং সুযোগ সুবিধার দিক থেকে তারা অন্যান্য মন্ত্রীদের মতোই সুবিধা ভোগ করেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে সরাসরি টেকনোক্র্যাট শব্দটি উল্লেখ না থাকলেও সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের অন্তত ৯০ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য হতে হয়। বাকি ১০ শতাংশ সদস্য সরকারপ্রধান সংসদের বাইরে থেকে নিয়োগ দিতে পারেন।
প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রয়োজন মেটাতে এই ১০ শতাংশ কোটায় সাধারণত বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে অন্যান্য মন্ত্রীদের মতোই টেকনোক্র্যাটদেরও ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত না হওয়ার মতো আইনি যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। সংবিধানে তাদের একটি সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা সংসদে বক্তব্য রাখতে ও আলোচনায় অংশ নিতে পারলেও কোনো প্রস্তাবে ভোটাভুটির সময় ভোট দিতে পারেন না। ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে প্রায় সব সরকারই এই কোটার সুবিধা গ্রহণ করেছে।
১৯৯১ থেকে ৯৬ মেয়াদে বিএনপি সরকার সেলিনা রহমান ও রিয়াজ রহমানকে এই কোটায় প্রতিমন্ত্রী করেছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার রিয়াজ রহমানকে পুনরায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করে।
২০০৯ সালের পর টেকনোক্র্যাট কোটার ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয় যেখানে বামপন্থি রাজনীতিক দিলীপ বড়ুয়া, আইনজীবী শফিক আহমেদ, প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার এবং স্থপতি ইয়াফেস ওসমানসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গঠিত স্বল্পস্থায়ী মন্ত্রিসভাতেও ডা. সামন্ত লাল সেন টেকনোক্র্যাট কোটায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এনএন/ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬







