প্রায় তিন দশকের ‘তিক্ততা’ মমতা-অধীরের, সেই জন্যই জোটে ‘কাঁটা’? লোকসভায় ‘অধীর-গড়’ চাইছে তৃণমূল

কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি – প্রায় তিন দশক চলে গিয়েছে। কিন্তু বাংলার রাজনীতি ভোলেনি আলিপুরের ট্রেজারি বিল্ডিংয়ের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্রতিবাদ। তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী মমতা গলায় কালো শাল জড়িয়ে ‘আত্মহননের’ প্রতীকী প্রতিবাদ করেছিলেন। কিসের প্রতিবাদ? প্রতিবাদ কংগ্রেসের তৎকালীন প্রদেশ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। অধুনাপ্রয়াত সোমেন মিত্রের বিরুদ্ধে। সাল ১৯৯৬। মমতার দাবি ছিল অধীর চৌধুরী, সুলতান আহমেদ, শঙ্কর সিংহ, মৃণাল সিংহরায়কে বিধানসভায় কংগ্রেসের প্রার্থী করা চলবে না। কারণ, তাঁরা ‘সমাজবিরোধী’।
তবে অধীররা শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়েছিলেন। ‘হাত’ চিহ্ন নিয়েই। মামলার কারণে নিজের কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে সশরীরে ঢুকতে পারেননি অধীর। কিন্তু তা-ও বামদুর্গ ভেঙে জিতেছিলেন। বীজপুরে অবশ্য মৃণাল হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু জিতেছিলেন সুলতান এবং শঙ্কর।
কালক্রমে মৃণাল রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়েছেন। সুলতান এবং শঙ্কর নাম লিখিয়েছেন মমতার দলে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে উলুবেড়িয়ার সাংসদ হয়েছিলেন সুলতান। তিনি এখন প্রয়াত। শঙ্কর জিততে পারেননি। তবে তাঁর পুত্র জিশু নদিয়ায় গুছিয়ে তৃণমূল করেন। এমনকি, তখন যে সোমেনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মমতা ওই চারজনের টিকিট পাওয়া নিয়ে ‘বিদ্রোহ’ করেছিলেন, সেই সোমেনও মমতার দলে নাম লিখিয়ে ডায়মন্ড হারবার থেকে সাংসদ হয়েছিলেন। পরে যদিও তিনি কংগ্রেসে ফিরে যান। সেই থেকে আমৃত্যু তিনি কংগ্রেসে ছিলেন।
কিন্তু অধীর কখনও কংগ্রেস ছাড়েননি। সেই ১৯৯৬ সালেও তিনি কংগ্রেসে ছিলেন। এই ২০২৪ সালেও তিনি সেই কংগ্রেসেই। ‘হাত’ না-ছেড়েই নির্বাচনী রাজনীতিতে অপরাজিত রয়েছেন অধীর। মমতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের উন্নতি হয়নি। বরং উত্তরোত্তর অবনতিই হয়েছে।
সেই বিরোধিতার ঐতিহ্য মেনেই ২৮ বছর আগের সেই তিক্ততা ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে আরও এক বার ফিরে এসেছে।
দু’দিন বিরতির পর রাহুল গান্ধীর ‘ন্যায় যাত্রা’ রবিবার ফের শুরু হচ্ছে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি থেকে। আগামী কয়েক দিন যে যাত্রায় রাহুলের সঙ্গে থাকবেন প্রদেশ সভাপতি অধীর। আবার রবিবারেই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মমতা। রাহুলের যাত্রা নিয়ে উত্তরবঙ্গে ‘উত্তেজনা’ বাড়ছে কংগ্রেস-তৃণমূলের মধ্যে। শনিবার কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়, ‘ন্যায় যাত্রা’র প্রচারে লাগানো ফ্লেক্স তৃণমূল ছিঁড়ে দিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে মমতাকে চিঠি লিখে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাহুলের যাত্রায় গোলমাল হতে পারে। তাই মমতার প্রশাসন যেন রাহুলের যাত্রাকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। পাল্টা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘‘আগে কংগ্রেস হাইকমান্ডের উচিত অধীরকে বলা যাতে তিনি মমতা ও তৃণমূল সম্পর্কে কুৎসিত আক্রমণ বন্ধ করেন। চিঠি দেওয়ার দ্বিচারিতা করে লাভ নেই।’’ ঘটনাচক্রে, রাহুলের যাত্রা অধীরের জেলা মুর্শিদাবাদে পৌঁছনোর কথা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি। সেই রাতে মুর্শিদাবাদেই থাকবেন কংগ্রেস নেতা। আবার ঠিক তার আগের দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি মমতার প্রশাসনিক সভা রয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে কে কী বলেন, কী ঘটনা ঘটে, সে দিকেও নজর থাকবে যুযুধান দু’পক্ষের।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন
আইএ/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৪









