রংপুর

সেই ইঁদারায় মিলল মানুষের হাড়-দাঁত

রতন সরকার

রংপুর, ০১ ডিসেম্বর – একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বহু ঘটনার সাক্ষী রংপুর নগরীর টাউন হল। এই হলের পেছনে একটি ইঁদারা খুঁড়ে পাওয়া গেল মানুষের হাড় ও দাঁত। ১৯৭১ সালে পাকসেনাদের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হলটির পেছনে অবস্থিত ইঁদারাটিকে এতদিন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা প্রশাসন সংরক্ষণ করে এলেও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সরকার পুরো এলাকাটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে হলটি সংস্কার, স্মৃতিসৌধ ও বাগান করার কাজ শুরু হতেই পাওয়া গেল পাক হানাদারদের নৃশংসতার প্রমাণ। মুক্তিযুদ্ধের ওই সময়টিতে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করে ওই ইঁদারায় ফেলা হতো। গতকাল তার প্রমাণ দেখল নতুন প্রজন্ম।

সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গতকাল থেকে এর খননকাজ শুরু হয়। সকালে শ্রমিকরা ইঁদারাটি খুঁড়তে শুরু করলে সেখান থেকে মানবদেহের এসব হাড়, চুল ও দাঁতসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বের হয়ে আসে।

আরও পড়ুন : সৌর বিদ্যুৎতের আলোয় আলোকিত রাঙামাটির পাহাড়ি সড়ক

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, রংপুরের সভাপতি ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর টর্চার সেল হিসেবে এই টাউন হলের কথা এত দিন আমরা বলে এসেছি। মুক্তিকামী বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষদের ধরে এনে এখানে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠনের পর তাদের হত্যা করে ফেলে দেওয়া হতো এই ইঁদারাটিতে।

রংপুর টাউন হল বধ্যভূমি থেকে মিলল মানুষের হাড়গোড়

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গত ২৬ নভেম্বর এই কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সবেমাত্র খনন শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনাদের হাতে নিহত শহীদগণের দেহাবশেষের অংশ হাড়, চুল ও দাঁত। তাদের ধারণা, এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আরও অনেক কিছুই পাওয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবেই এসব সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।

সুত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ০১ ডিসেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language