জিন-নকশায় অজানা দিগন্ত উন্মোচন

মানুষের রোগব্যাধি হয় কেন? কিংবা সবার একই রোগ হয় না কেন? আবার অবিকল দুই যমজ শিশুর একজন ক্যানসার বা বিষণ্নতায় ভোগে আর অন্যজনের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের রহস্য কী? এ রকম নানান প্রশ্ন আমাদের নিত্যদিনের।
এবার এসব প্রশ্নের মীমাংসা হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, এমন আচরণ কিংবা অসুস্থতা বা রোগের অন্যতম কারণ মানুষের জিন। সেই জিন-নকশার বিস্তারিত বিশ্লেষণ হাজির করেছেন বিজ্ঞানীরা।
গত বুধবার বিজ্ঞানবিষয়ক তিনটি সাময়িকী—নেচার, জিনোম বায়োলজি ও জিনোম রিসার্চ-এ তাঁদের ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, সিঙ্গাপুর ও জাপানের ৩২টি পরীক্ষাগারে চার শতাধিক বিজ্ঞানী কাজ করেছেন।
বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে জিন। এই জিন হলো ডিএনএর অংশ। ডিএনএর মাধ্যমে তৈরি প্রোটিন আমাদের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
মানবদেহে ডিএনএর সুনির্দিষ্ট কাজ শনাক্ত করতে ২০০৩ সালে এনসাইক্লোপিডিয়া অব ডিএনএ এলিমেন্ট বা এনকোডের যাত্রা শুরু হয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মানবদেহে ডিএনএর মাধ্যমে কোথায়, কখন, কোন প্রোটিন তৈরি হয়, তা জানা। চার বছরের মাথায় বিজ্ঞানীরা বললেন, প্রোটিন তৈরির জন্য মাত্র ১ শতাংশ ডিএনএর সুনির্দিষ্ট কাজ রয়েছে। বাকি ডিএনএর বেশির ভাগই তেমন কোনো কাজে আসে না। এগুলো তুলনা করা হলো অকেজো বা আবর্জনার সঙ্গে। বিজ্ঞানীরা এসব ডিএনএর নাম দিয়েছেন জাং ডিএনএ।
এখন বিজ্ঞানীরা সেই অকেজো ডিএনএর মধ্যে অজানা দিগন্ত পেলেন। তাঁরা বলছেন, এসব ডিএনএর ৮০ শতাংশ নির্দিষ্ট কাজ করে। অর্থাৎ তারা প্রোটিন তৈরি করে। এর ফলে মিলবে শারীরবৃত্তীয় নানান ব্যাখ্যা।
গবেষণা দলের প্রধান ইউরোপিয়ান বায়োইনফরমেটিকস ইনস্টিটিউটের ইওয়ান বার্নি বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, জিন-নকশার একটা বড় অংশের নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে। এর ফলে বর্তমান ফলাফল মানুষের জৈবিক ক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। হূদেরাগ, ডায়াবেটিস ও মানসিক অসুস্থতার মতো সমস্যাগুলো সমাধান আরও সহজ হবে।’
এই আবিষ্কারকে ‘গুগল ম্যাপে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রড ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট এরিক লেন্ডার। তিনি বলছেন, মহাকাশ থেকে দেখলে পৃথিবীকে যেমন দেখায়, বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত মানুষের সমস্ত ডিএনএর ক্রমসজ্জাটাও তেমন। বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস।
আডি/ ১৬ নভেম্বর









