ঢালিউড

যিনি পরীমনির সঙ্গে প্রভাবশালীদের বিদেশ ভ্রমণের আয়োজন করতেন

ঢাকা, ০৭ আগস্ট – বিনোদনপাড়ায় নেমে বেপরোয়া জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠা চিত্রনায়িকা পরীমনি বিপুল মাদকসহ গ্রেফতারের পর চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন এই রহস্যময়ী নায়িকা। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দিচ্ছেন নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গেল শুক্রবার দুপুরে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, পরীমনি চলচ্চিত্রের আড়ালে খারাপ ব্যবসা করতেন এবং এই ব্যবসাগুলোতে কারা তাকে পেট্রোনাইজ করেছেন, তাদের কথাও তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

গত বুধবার (৪ আগস্ট) রাতে বনানীর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ পরীমনিকে আটক করে র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় তাকে হস্তান্তর করে র‌্যাব। এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে চার দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

পরীমনি মানেই এখন চলে আসে তার কথিত ‘মা’ নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর নাম। পরীমনি গ্রেফতার হওয়ার পর বিতর্কিত ভূমিকা ও তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন এই নির্মাতা। তিনি পরীমনির কথিত ‘মা’ বলেও পরিচিত। কিছুদিন আগে বোট ক্লাবের ঘটনায় পরীমনির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন চয়নিকা।সে সময় পরীমনিকেও প্রেস ব্রিফিংয়ে বলতে শোনা গেছে, আমার পাশে মা (চয়নিকা) আছে। আমি মা পেয়েছি।আমার কোনো চিন্তা নেই।

কিন্তু এবার পরীমনি গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। অনেকটা এড়িয়ে চলছেন এই নির্মাতা। যদিও বিনোদনপাড়ায় চয়নিকাকে নিয়ে অনেক সময় নেতিবাচক কথা শোনা যায়।

এদিকে গতকাল (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথ এলাকা থেকে চয়নিকাকে আটক করে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীমনি সিন্ডিকেট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পার্টির নামে অনৈতিক কাজ ও মাদকের আসর বসাত। পরীমনির বেশিরভাগ পার্টির আয়োজনের দায়িত্বে থাকতেন নজরুল ইসলাম রাজ ও কথিত মামা দিপু। আর পরীমনির সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালীর বিদেশ ভ্রমণের আয়োজন করতেন চয়নিকা চৌধুরী।

সূত্র আরও জানায়, পার্টির এক পর্যায়ে সুন্দরী রমণীদের টার্গেট করা ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই সুন্দরীদের নিয়ে আলাদা কক্ষে একান্তে সময় কাটানোরও ব্যবস্থা রাখা হতো। এ সময় একান্ত সময়ের দৃশ্য বিশেষ টেকনোজির মাধ্যমে ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে ধারণকৃত দৃশ্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করা হতো টার্গেটকৃত সমাজের উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালীদের। দফায় দফায় বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। ভুক্তভোগীরা প্রভাবশালী হলেও সামাজিক মান-মর্যাদার দিকে তাকিয়ে মুখ খুলতেন না তারা। অসহায়ের মতো পরীমনি ও তার সিন্ডিকেটের সব আবদার মেনে নিতেন।

সূত্র: যুগান্তর
এম ইউ/০৭ আগস্ট ২০২১


Back to top button
🌐 Read in Your Language