ইন্দোনেশিয়ার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক বিশ্ব

বোর্নিও, ২৪ জুলাই – এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার করোনা পরিস্থিতি বেশ খারাপ। দেশটিতে যে গতিতে সংক্রমণের হার বাড়ছে তাতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের উৎপত্তি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ডেলটার চেয়েও আরও সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। গত সপ্তাহেই ইন্দোনেশিয়া সংক্রমণের প্রতিদিনের হিসাবে ভারত ও ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে নতুন করে ৪৯ হাজার ৫০০ সংক্রমিত ও ১ হাজার ৪৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির ভাইরাসবিদ ডিকি বুদিম্যান আলজাজিরাকে বলেন, ‘যে অঞ্চল বা দেশগুলো মহামারী নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, সেখানেই নতুন ভ্যারিয়েন্টের উত্থান ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মোট করোনা পরীক্ষার মধ্যে যদি ৫ শতাংশও পজিটিভ আসে, তাহলে সেই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলা যায়। মহামারী শুরু হওয়ার পর প্রথম ১৬ মাসে ইন্দোনেশিয়ায় ওই হার ছিল ১০ শতাংশ। আর এখন সেটা ৩০ শতাংশ। ফলে ইন্দোনেশিয়ায় করোনার নতুন বা সুপার ভ্যারিয়েন্ট উৎপত্তি হওয়ার মতো পরিবেশ রয়েছে।’
ভারতের ক্ষেত্রেও ঘটনা প্রায় একই ছিল। করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলা করতে পারলেও, দ্বিতীয় ঢেউয়ের বেলায় মুখ থুবড়ে পড়ে দেশটির স্বাস্থ্য খাত। করোনা পরীক্ষাও পর্যাপ্ত হারে করা যায়নি। টিকার ব্যাপক সংকটের মধ্যে মহামারী নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আর এমন পরিস্থিতিতেই ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের উৎপত্তি হয় দেশটিতে। এখন সারা বিশ্বে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টকেই সবচেয়ে শক্তিশালী বলা হচ্ছে। অধিকাংশ দেশই এখন ডেলটায় আক্রান্ত। ভারতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই বিজ্ঞানীরা ইন্দোনেশিয়ার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত। এখনো যেখানে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টকে মোকাবিলা করার কোনো উপায় বের করা যায়নি, সেখানে আরও শক্তিশালী ভ্যারিয়েন্ট এলে গোটা চিকিৎসাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার জ্যাকম্যান ইনস্টিটিউটের প্রধান আমিন সোয়েবান্দরিওর মতে, ‘যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে আমরা নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্টের উৎপত্তির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারি না। আমাদের গোটা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং উৎপত্তির পর যত দ্রুত সম্ভব ভ্যারিয়েন্টটিকে শনাক্ত করতে হবে।’ নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের উত্থানের ক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা রাখে ভাইরাসের জিন।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ভাইস চেয়ার ড. স্টুয়ার্ট রে জানান, প্রতি সপ্তাহেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কভিড-১৯-এর নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেখা যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের মতো আরএনএ ভাইরাসের ক্ষেত্রে এমন বিবর্তন ও পরিবর্তন খুবই সাধারণ ব্যাপার। এই পরিবর্তিত ভ্যারিয়েন্টগুলোর অধিকাংশই প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। কিন্তু ঘনবসতির কারণে কয়েকটি ভ্যারিয়েন্ট বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বৈ শ্বিক পর্যায়ে এখন আলফা, বেটা, ডেলটা এবং গামা ভ্যারিয়েন্ট বেশ শক্তিশালী পর্যায়ে আছে। যুক্তরাজ্যে আলফা, বেটা দক্ষিণ আফ্রিকায়, ভারতে ডেলটা এবং ব্রাজিলে গামার উত্থানের পেছনে একদিকে ঘনবসতি ফ্যাক্টর ও দুর্বল প্রতিরোধব্যবস্থা। ইন্দোনেশিয়ায় এখন গামা ভ্যারিয়েন্ট প্রভাব বিস্তার করে আছে। দেশটির স্বাস্থ্যগত অবকাঠামো এতটা শক্তিশালী নয় যে উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন ভ্যারিয়েন্টকে শনাক্ত করা যাবে। ইতিমধ্যে দেশটিতে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন হাজার জেনোম সিকোয়েন্স পরিবর্তন হয়েছে, যা কিনা সাধারণ ২০০ থেকে ৩০০ বছরের মধ্যে ঘটে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/২৪ জুলাই ২০২১









