খুলনা

৮ কোটি টাকার মেডিকেল বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট অব্যবহৃত

মামুন রেজা

খুলনা, ০৭ জুন – খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে আট কোটি টাকা দিয়ে মেডিকেল বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয় দেড় বছর আগে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পাঁচ জনবল না থাকায় প্লান্টটি দেড় বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এর ফলে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও মেডিকেল বর্জ্য জীবাণুমুক্ত না করেই বাইরে অপসারণ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে মেডিকেল বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সরবরাহ করা হয়। ভবন তৈরির পর ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিউ টেক জি টি লিমিটেড হাসপাতালে প্লান্টটি স্থাপন করে। ব্যয় হয় প্রায় আট কোটি ২৩ লাখ টাকা। কিন্তু এই প্লান্ট পরিচালনার জন্য শুরু থেকেই কোনো জনবল নেই। এ অবস্থায় গত বছরের ৪ জানুয়ারি হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক প্লান্ট অপারেটরসহ পাঁচজন লোক চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেন। কিন্তু জনবল নিয়োগ হয়নি। এই হাসপাতালটি ছাড়া খুলনা বিভাগের অন্য কোনো হাসপাতালে মেডিকেল বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নেই।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম জানান, প্লান্টটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একজন প্লান্ট অপারেটর, দু’জন হেলপার ও দু’জন বর্জ্য অপসারণকারী প্রয়োজন। কিন্তু সেই জবনল নেই। প্লান্টটিতে একটি বয়লার রয়েছে। দক্ষ জনবল ছাড়া বয়লার চালাতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, গত বছর আবু নাসের হাসপাতালের পরিচালকের কাছে করোনা হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য এই প্লান্টে পরিশোধনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্জ্যের মধ্যে মেডিকেল বর্জ্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। প্লান্ট থাকার পরও পরিশোধন না করেই মেডিকেল বর্জ্য বাইরে অপসারণ করতে হচ্ছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আট কোটি টাকা দিয়ে একটি প্লান্ট স্থাপন করা হলো, অথচ তা কোনো কাজে আসছে না। এটা রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তা না হলে অব্যবহৃত প্লান্টটি অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্য হাসপাতালের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, প্লান্টটি যাতে অকেজো হয়ে না যায়, সে জন্য তিনি একজন কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে মাঝেমধ্যে প্লান্ট চালু করছেন। তবে জনবল ছাড়া প্লান্টটি সার্বক্ষণিক সচল রাখা সম্ভব নয়। তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য একটি এনজিওর কর্মীরা পিকআপে সংগ্রহ করে রাজবন্ধ এলাকায় সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার বলেন, নতুন জনবল নিয়োগ অথবা হাসপাতালে থাকা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্লান্টটি সচল করার জন্য তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাধ্য হয়ে জীবাণুমুক্ত না করেই হাসপাতালের বর্জ্য বাইরে বের করতে হচ্ছে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ০৭ জুন


Back to top button
🌐 Read in Your Language