সিলেট

হঠাৎ সিলেটে হেফাজত নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক

সিলেট, ০৭ মে – ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে ধরপাকড় হলেও সিলেটে একরকম নিরুদ্বিগ্ন ছিলেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। কিন্তু হঠাৎ করে সংগঠনটির সিলেটের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে গ্রেফতার আতঙ্ক।

সে আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে গ্রেফতারের খবরে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ভোররাতে হেফাজতে ইসলাম (সদ্য বিলুপ্ত) জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেটের শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম জমিয়ত নেতা মুফতি মাওলানা মাসউদ আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই দিন ভোররাত ৩টায় তাঁকে সিলেটের জকিগঞ্জস্থ বারহাল ইউনিয়ন কচুয়া গ্রামের তাঁর নিজবাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত।

হেফাজতের সিলেট মহানগর শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে শুক্রবার (৭ মে) রাতে বলেন, ‘আমরা কেন্দ্র কোনো সতর্ক সংকেত এর আগে পাইনি। বরং আমাদের সাংগঠনিক সূত্রমতে- অন্যান্য জায়গায় ধরপাকড় হলেও সিলেটে গ্রেফতারের শঙ্কা ছিলো না। কিন্তু আজ অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বিষয়টি আমাদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করেছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিবেশের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সারা দেশে কয়েক শত হেফাজত নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমেদ, সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহ, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরো নেতাকর্মীদের।

সিলেটের বাইরে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৬ মে) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী প্রচার সম্পাদক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা গাজী ইয়াকুব ওসমানীকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার দিবাগত (৭ মে) রাত পৌনে ১টার দিকে সিলেট নগরীর বনকলাপাড়াস্থ আব্বাসী জামে মসজিদ থেকে এতেকাফরত অবস্থায় জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকার একটি টিম।

এদিকে, কয়েক দিন আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট মহানগর হেফাজতের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমারা জানতে পেরেছি- সিলেটে ধরপাকড়ের আশঙ্কা নেই। সিলেটে আমরা যত আন্দোলনই করেছি সবই শান্তিপূর্ণ এবং কেন্দ্রের ডাকে। আর আমাদের সিলেটের কোনো নেতাই কোনো সভা-সমাবেশে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য কখনোই দেননি। আমরা আশা করছি, শান্ত জনপদ সিলেট শান্তই থাকবে।’

সিলেটের হেফাজত নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে সে সময় মিল পাওয়া যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যেরও। সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) একটি সূত্র ওই সময় বলে, ‘এরকম কিছু সহসাই ঘটছে না। সিলেটে পুলিশ এখন সরকার নির্দেশিত কঠোর লকডাউন বস্তবায়ন এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিরাম মাঠে কাজ করছে। আপাতত পুলিশের মনোনিবেশ সেদিকেই।’

তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিলেটের শীর্ষ দুই হেফাজত নেতা গ্রেফতার হওয়ায় উল্টে গেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের হিসেব-নিকেশ। এবার তাদের মাঝে বিরাজ করছে চরম গ্রেফতার আতঙ্ক।

সূত্র : সিলেটভিউ২৪
এন এইচ, ০৭ মে


Back to top button
🌐 Read in Your Language